মোটিভেশনাল গল্প

পৃথিবীর সেরা মোটিভেশনাল গল্প ২০২২ । অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্প

কিছু মোটিভেশনালগল্প,কথা,উক্তি মানুষের জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে মাঝে মাঝে কাজ করে ঘুরে দাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে। এসব গল্প থেকে মানুষ চলার পথে নিজেদের আলোর দেখা পায়। গ্রাফিক্স পিক এই বাংলা আর্টিকেলটিতে কিছু ছোট গল্পের শিক্ষনীয় সমাহার, যা অনুপ্রেরণা যোগাবে আপনার চলার পথে।

মোটিভেশনাল গল্প

৫ টি গল্প শেয়ার করছি যদি আপনারা আরও ৫ টি গল্প দিব অনুগ্রহ করে কমেন্টে জানিয়ে দিবেন।

মোটিভেশনাল গল্প

১। ব্যাঙের গল্প

বনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল একবার একদল ব্যাঙ। এমন সময় গভীর গর্তে পড়ে গেল ব্যাঙের দল থেকে কোন দুটি ব্যাঙ। ব্যাঙ্গালোর ছুটে আসা খুবই কঠিন ছিল কারণ গর্তটা অনেক গভীর। বেঙ্গলি নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করছিল গর্ত থেকে উঠে আসার জন্য। এই গর্ত থেকে বের হয়ে আসার কোন উপায় বা বরষা নেই এমনটা বলাবলি করছিল অন্য ব্যাঙ গুলো। কিছুক্ষণ পর পর অনেক চেষ্টা করার পর উপরে উঠে আবার নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছিল। তোমরা কিছুতেই আর উঠতে পারবে না এমনটাই বলছিল উপরে থাকা ব্যাঙগুলো। অনেক গভীর গর্ত তাই এখান থেকে উঠে আসা কোনভাবেই সম্ভব নয় শুধু শুধু কষ্ট করে লাভ নেই আশা ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নাও।

মোটিভেশনাল গল্প

দুটি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম ব্যাংটি উপরের ব্যাংকগুলোর কথা শুনে উল্টোদিকে লাফাতে লাফাতে নিজের দেহকে বিসর্জন দিয়ে মৃত্যুবরণ করল। কিন্তু সাথে থাকা দ্বিতীয় ব্যাংকটি আরো উদ্যোগ নিয়ে চেষ্টা করতে লাগল কিন্তু উপর থেকে বাকি ব্যাংকগুলো বলতে লাগলো এই বৃথা কষ্ট করে কোন লাভ হবে না মৃত্যুকে সহজ করো। কিন্তু সব চেষ্টার পরে অবশেষে ব্যাংকে উপরে উঠে এলো। উঠে এসে ব্যাঙটি যা বলল “উপর থেকে তোমাদের উৎসাহ দেওয়ার কারণে আমি এখানে উঠে আসার মনোবল পেয়েছি ” । তোমরা যদি উপর থেকে চিৎকার না করতে তাহলে আমি এই সাহস পেতাম না। কারণ আমি কানে শুনতে পাই না শুধু চোখে দেখেছি তোমাদের চিৎকার করে বলতে উঠে আসার জন্য।

আরও পড়ুনঃ ১০ টি জনপ্রিয় বাংলা ফন্ট ফ্রী ডাউনলোড

গল্পের শিক্ষা:

১. আশেপাশে মানুষগুলোকে একটু উৎসাহ দিলে অনেক কঠিন বিপদে ও এগিয়ে যেতে সাহস পায়।

২. নেতিবাচক কোথায় কান দিবেন না নিজে লোককে অভিযোগ থাকলে অবশ্যই সফলতা আসবে।

২. প্রজাপতির গল্প

একদিন একজন মহৎ হৃদয়বান ব্যক্তি প্রজাপতির ডিম দেখতে পেলেন তার বাগানে। ডিম ফুটে প্রজাপতি বের হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেও বের হতে পারছে না। শব্দকোটা প্রজাপতিটি অনেক চেষ্টা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তার মাথা বের করলেও বাকি শরীর ব্যয় করতে পারছে না। অনেক চেষ্টা করার পর হয়তো প্রজাপতিটি মনে করেছে সে আর বের হতে পারবে না তাই আর দাপাদাপি না করে থেমে গিয়েছে। মহৎ লক্ষ্মী ডিম বা গুটির বাকি অংশটি কেটে দিয়ে প্রজাপতিকে বের করে ফেলল।

মোটিভেশনাল গল্প প্রজাপতির গল্প

অবশ্য এখন আপনার মনে হচ্ছে লোকটি প্রজাপতির অনেক উপকার করেছে। এটা কি আপদৃষ্টিতে উপকার মনে হলে প্রকৃত অর্থে প্রজাপতি অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছেন ওই লোকটি। প্রজাপতির যে অংশটি বের হয়েছিল সেটি ব্যতীত বাকি অংশটি আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। যেহেতু ঐ লোকটি কেটে বাকি অংশটি বের করে ফেলেছে সেহেতু প্রজাপতির বাচ্চাটি অপরিপক্ক রয়েছে। প্রজাপতিটি বড় হয়েও বাকি জীবনে কখনো ঠিক ভাবে উঠতে পারবে না, কারণ ওনার জন্য প্রজাপতির ডানা যতটুকু মজবুত হওয়ার দরকার ছিল ততটুকু হতে পারিনি।

আরও পড়ুনঃফটোশপ টুলস পরিচিতি- নতুনদের জন্য সম্পূর্ণ ফটোশপ সমাধান

গল্পের শিক্ষাঃ

১. জীবনের প্রতিটি সমস্যায় আমাদের আগামী দিনগুলোর জন্য আমাদেরকে শক্তিশালী হিসেবে প্রস্তুত করে তোলে। কষ্ট ছাড়া কেউ কখনো নিজেকে বড় করতে পারেনি।

২. নিজের জীবনের চ্যালেঞ্জ নিজেকে মোকাবেলা করতে হবে অন্যের আশায় বসে থাকা বা অন্যের কাঁধে ভর করে কিছু পাড়ি দেওয়া আমাদের নিজেদের জন্যই ক্ষতিকর হবে।

৩. থিঙ্ক আউট অফ দা বক্স (একটু ভিন্ন ভাবে ভাবুন)

গল্পটি একজন ব্যবসায়ীর মেয়ের বুদ্ধিদীপ্ত কাজের। যারা শত বছর পূর্বে ইতালির একটি ছোট্ট শহরে বসবাস করত। একজন ব্যবসায়ী যিনি ছিলেন খুবই বৃদ্ধ তিনি তার ব্যবসার কাজের জন্য শহরের একজনের কাছ থেকে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন যিনি ছিলেন একজন রক্তচুষা মহাজন। কিন্তু অনেকবার থানার লোকসান হল। তাই মহাজনের সুদের টাকা বেড়ে গেল চক্রবৃদ্ধি হারে তাই সময় মত টাকা পরিশোধ করতে পারলো না। সবশেষে মহাজন টাকা মাফ করে দেওয়ার একটা উপায় বলল সেটি হচ্ছে ব্যবসায়ী তার মেয়েকে বিয়ে দিবে মহাজনের সাথে। মহাজনের স্বভাব চরিত্র ততটা ভালো ছিল না তাই ব্যবসায়ী এ প্রস্তাবে রাজি হবেন না।

প্রজাপতির গল্প

অবশেষে সাদা এবং কালো নুরি পাথর দিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করতে গেলে। মহাজন বলল আমি একটি বেগে একটি সাদা পাথর এবং অপর বেগে একটি কালো পাথর রাখবো। আপনার মেয়ে সেখান থেকে যে কোন একটি পাথর তুলবে যদি সে কালো পাথর তুলে তাহলে আমি আপনার সব ঋণ মাফ করে দেবো এবং তাকে বিয়ে করবো। আর যদি সে সাদা পাথর তোলে তবুও আমি আপনার সকল ঋণ মাফ করে দেব কিন্তু আপনার মেয়েকে আমার কাছে বিয়ে দিতে হবে না। কিন্তু যখন মহাজন ব্যাগের মধ্যে পাথরগুলো রেখেছিলেন মেয়েটি দূর থেকে দেখে ফেলেছিলেন যে মহাজন দুটি ভেঙে কালো পাথর রেখেছেন।

এমন অবস্থায় তিনটি পথ খোলা ছিল মেয়েটি:

  1. ব্যাগ থেকে পাথর বাছাই করতে অস্বীকার করা
  2. ব্যাগ থেকে উভয় নড়িপাতার বের করে নিয়ে মহাজনের ষড়যন্ত্র প্রকাশ করে ফেলা।
  3. ব্যাগ দুটি কালো পাথর আছে যেন একটি পাথর তুলে বাবার স্বাধীনতার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।

কিন্তু যে পদক্ষেপেই মেঘ তার এবং বাবার জন্য বিপদই হতো। তাই মেয়েটি এমন কিছু করল যা দেখে মহাজন বোকা হয়ে গেল। মেয়েটি ব্যাগ থেকে পাথরটি বের করার আগে নিচে ফেলে দিল। এবং দুর্ভাগ্যবশত পড়ে গিয়েছে বলা হলো। এবং সবাইকে বলা হলো যেহেতু পড়ে যাওয়া পাথরে রং দেখা যায়নি তাই অপর বেগের পাথরের রংটি দেখে নিন। এভাবেই মেয়েটি মহাজনকে বোকা বানিয়ে রেহাই ফেলো।

গল্পটির নৈতিক শিক্ষা:

১. প্রতিটা কঠিন বিপদের এই কোন না কোন উপায় থাকে বের হওয়ার জন্য। শুধুমাত্র ঠান্ডা মাথায় একটু আউট অফ দা বক্স চিন্তা করতে হবে।

২. আপনাকে দেওয়া অপশনের বাহিরেও অপশন থাকতে পারে.

৪. শেকলে বাধা হাতি:

একদা একটি বাচ্চা সার্কাস দেখার জন্য তার বাবার কাছে বিনা ধরল। অতঃপর সার্কাস এ গিয়ে বিভিন্ন পশুপাখির কাঁচা সামনে গিয়ে দেখছিল। সে লোক গুলো একটি হাতির পায়ে শিকল। যা হাতির চেষ্টা করলেই ছিড়ে ফেলতে পারে কিন্তু চেষ্টা করছে না।

তখন ছেলেটি কৌতূহ শত তার বাবার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা জানাইছে যে হাতির ছোটবেলা থেকে এই সাইজের শিকল দিয়ে বাধা ছিল তখন অনেক চেষ্টা করেছিল ছোটার জন্য ছুটতে পারেনি। তাই হাতেটি বিশ্বাস করে যে এই অবস্থায়ও এই শিকল ছাড়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। হাতিতে মূলত শিকলের কাছে নয় তার বিশ্বাসের কাছে বন্দী হয়ে আছে।

গল্পের শিক্ষা:

১. যেকোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য প্রথমে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে হবে যে আমি জয়ী হব।

২. বাধা যতই আসুক না কেন আপনার কাজ হবে চেষ্টা করে যাবো।

৫. জ্ঞানীর দেওয়া সমস্যার সমাধান:

একজন জ্ঞানী ব্যক্তি একা স্থানে দেনমো থাকতেন ।তিনি মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলতেন। ব্যক্তিটির অনেক ভক্ত ছিল। একদিন তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে একটি কৌতুক বললেন, সবাই হাসতে থাকলেন।

তিনি দ্বিতীয়বার কৌতুক বলেন তবে এখন অল্প কিছু লোক আসলো।

প্রজাপতির গল্প

তৃতীয়বার কৌতুক বলার সময় কেউ হাসলো না।

অতঃপর তিনি বললেন , একই কৌতুক বারবার বলাতে হাসতে পারো না ,তবে একটি সমস্যার জন্য বারবার কেন কাঁদো?

এই গল্পের শিক্ষাটি হল:

১. দুশ্চিন্তা হতাশা ইত্যাদি করা শুধুমাত্র শক্তি ও সময় দুটো অপচয় করা

২. এই জিনিসগুলো কখনো কোন সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

আমাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প গুলো কেমন লেগেছে অবশ্যই আপনারা কমেন্ট করে জানাবেন। যদি আপনাদের সঠিক রেসপন্স পাই তাহলে আরও পাঁচটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প আপনাদের মধ্যে শেয়ার করব।

2 comments

    Thanks a important post.

Leave a Reply

Shopping cart

0
image/svg+xml

No products in the cart.

Continue Shopping
x