স্মার্ট ভিজিটিং কার্ড

কিভাবে একটি স্মার্ট ভিজিটিং কার্ড তৈরি করবেন সে বিষয়ে ৭টি টিপস

একটি ভালো মানের ভিজিটিং কার্ড শুধু আপনার পরিচয়ই তুলে ধরে না বরং এটি আপনার রুচিশীলতার পরিচয় দেয়। বর্তমানে ডিজিটাল নেটওয়ারকিং এর মাধ্যমের মাযেও ভালো মানের ভিজিটিং কার্ড এর গুরুত্ব অনেক। কারণ ভিজিটিং কার্ড এর মত হিউম্যান ফ্যাক্টর ইউটিলাইজ করার সুযোগ অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে নাই।

একটি ভালো মানের ভিজিটিং কার্ড ব্রান্ডের এক্সটেনশন হিসেবে কাজ করে যা আপনাকে অন্যদের কাছে মেমেরেবল করতে সাহায্য করে।

অনেক ভিজিটিং কার্ড আছে যা মানুষ একবার দেখলেই ময়লারজড়িতে ফেলে দেয়। আমরা আজকে এমন সাতটি টিপস দিব যা আপনার ভিজিটিং কার্ডকে শুধুমাত্র একটি ফেলনা কাগজের টুকরোয় থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি আপনার যোগাযোগ মাধ্যমকে শক্তিশালী করবেন তা আপনার ব্যবসায়ী ভালো কালেকশন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

১। লোগো ও ট্যাগ লাইন

আপনার ভিজিটিং কার্ডে তোর তো ঠিক করার আগে দেখে নিবেন আপনার লোগো ও ট্যাগ লাইন ঠিকমতো আছে কিনা যেহেতু আপনার ভিজিটিং কার্ড আপনার ব্র্যান্ডের একটি এক্সটেনশন, এতে আপনার ব্যবসায়িক পরিচয় থাকতে হবে। ইয়ে কার্ডে যেন রং সাইজ এবং অন্যান্য সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আপনার ব্যবসার পরিচিতি তুলে ধর।

একজন বাহক আপনার কাটি হাতে নেওয়া মাত্রই যেন বুঝতে পারে আপনার ব্রান্ড ও পরিচিতি। যাতে পরবর্তীতে যে আপনার আপনার ব্যবহারলোগো বা নাম দেখলে যেন সাথে সাথেই আপনার ব্রান্ডিং এর সাথে মিলিয়ে চিনে ফেলতে পারে। অন্য কোন ক্ষেত্রে আপনার পোর্টফোলিও, ওয়েবসাইট দেখে সে আপনার ভিজিটিং কার্ডের কথা মনে চিনে ফেলতে পারে।

২। নাম ও জব টাইটেল

এটি আপনার ভিজিটিং কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি অবাক হবেন জেনে অনেক মানুষ এই এই সামান্য জিনিসটি ভুল করে বসে থাকে। ধরেন আপনার নাম শামীম কিন্তু সবাই সেম নামেই চেনে এক্ষেত্রে আপনার মানুষ আপনাকে যে নামে চিনে সেই নামটি ভিজিটিং কার্ডে দিতে হবে।

REad also: গ্রাফিক্স ডিজাইনার এর ক্যারিয়ার গ্রো করবো কিভাবে?

আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না আমি অনেক কনফারেন্সে কত মানুষের ভিজিটিং কার্ড পেয়ে থাকে সেগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে কার্ডটি দিল সে আসলে কর্মজীবনে কি করে। অনেকে তার নামের পরিবর্তেতে অনেক ফালতু টাইটেল লাগিয়ে বসে থাকে যেমন সি ইউ,ফাউন্ডার বা প্রেসিডেন্ট ইত্যাদি। আপনার কাছে এটা খুব স্টাইলিশ মনে হতে পারে কিন্তু এটি একটি অপ্রয়োজনীয় জিনিস।

ভিজিটিং কার্ডের পাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আমি ভুলে যাই যে কার্ড দিল সে কি কাজ করে বা কেন কোন কাজের জন্য তাকে কল করব। যদি কোন কার্ডে লেখা থাকে কাসেম ফাউন্ডার অফ ভিডিও মাস্টারস , তাহলে সেটা কাজের কোন কিছুই বোঝা যায় না। এখানে কাশেম কি ভিডিওগ্রাফার নাকি ভিডিও এডিটর নাকি ভিডিও স্ক্রিপ রাইডার দেত ভুলে গেছে দেততেরি। ভিজিটিং কার্ডে নিজের কাজকে তুলে ধরতে অর্থবহ পদবী ব্যবহার করা উচিত।

৩।যোগাযোগ

ভিজিটিং কার্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যোগাযোগ। আপনি যদি চান আপনার সাথে মানুষ যোগাযোগ করুক তাহলে অবশ্যই যোগাযোগের উপায় দিতে হবে। কিন্তু এত উপায় এর মধ্যে সব উপায় এখানে দিতে পারবেন না শুধুমাত্র ডাইরেক্ট উপায় গুলো দিতে হবে। ভিজিটিং কার্ড ক্লায়েন্টদের সাথে পার্সোনাল কানেকশন তৈরি করার চেষ্টা করে।

এখানে গুরুত্বহীন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কানেকশন নষ্ট করা একদমই উচিত না। যেখান থেকে আপনাকে খুঁজে পেতে কয়েকটা মাধ্যমের প্রয়োজন হয় এমন মাধ্যম সকলে পছন্দ করেনা। সেখানে আপনার ফ্যামিলির নাম্বারও দিতে পারবেন না যেখানে ফোন করলে আপনার বাচ্চা গল্প জোরে দিতে পারে।

Read also: গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার । বেসিক বিষয় ও ব্যাবহারসমূহ

সেখানে আপনার পার্সোনাল নাম্বার,ইমেইল ব্যবহার করবেন। ফ্যামিলির নাম্বার এর মত জেনারেল অপশন ব্যবহার করা এটা আনস্মার্ট একটা বিষয়। পার্সোনাল ও ডাইরেক্ট কন্টাক্ট ইনফরমেশন ব্যবহার করার ফলে ব্যবসা থেকে প্রাইভেট লাইফ সেপারেট করা সহজ।

যদি আপনার ব্যবসার জন্য একটি স্টুডিও বা কারখানা তাকে কেবল তবেই আপনার ফিজিক্যাল এড্রেস দিতে পারবেন। যদি আপনি বিভিন্ন স্পটে গিয়ে কাজ করেন তবে আপনার কার্ড কোন এরিয়ায় কাজ করেন তা উল্লেখ করতে পারবেন। আর যদি আপনি অনলাইনে কাজ করেন তাহলে ফিজিক্যাল এড্রেস একদমই মানায় না এটা একটা অপ্রয়োজনীয়।

৪। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল

আপনার কার্ডে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া গুলো এড করবেন কিন্তু সবগুলো এড করা দরকার নেই আজকাল আমাদের জীবনের খুব অভিচ্ছেদ্য অংশ হলো সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল ব্যবসা ও ট্রেডিশনাল উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি মিডিয়ায় একটিভ না থাকলে কাস্টমারের কাছে অস্তিত্বহীন থাকা। আক্ষরিকভাবে আদতে এখন এই অবস্থা।

তবে এজন্য আপনার ছয় সাতটা সোশ্যাল মিডিয়ার এড্রেস কার্ডে উল্লেখ করতে হবে না। আমরা সব সময় সিম্পল ডিজাইন ফলো করবো এই বিষয়ে পঞ্চম পয়েন্টে বিস্তারিত বলা আছে। আপনি আপনার কার্ড ে আপনার সাথে কানেক্ট করতে পারবে এমন ওয়েবসাইট উল্লেখ করবেন।

এখানে আপনি সর্বোচ্চ দুইটা সোশ্যাল মিডিয়া এড্রেস দিলে যথেষ্ট। যা থেকে কাস্টমাররা আপনার সম্পর্কে এবং আপনার কাজের সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আপনি একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে আপনার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল দিতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইন হিসেবে বিহেন্স প্রফাইল দিতে পারেন এবং আপনার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল প্রোফাইল দিতে পারেন।

৫।হোয়াইট স্পেস

হোয়াইট স্পেস এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটার জন্য আলাদা করে একটি পয়েন্ট লিখতে হচ্ছে। আমরা অনেক সময় এমন অনেক কার্ড দেখে যার ডিজাইন ও তথ্য ঘিঞ্জি অবস্থায় থাকে যা দেখে মনে হয় অসুস্থ ব্যক্তির কার্ড। তাই মাথায় রাখতে হবে আপনার কার্ডের পয়েন্ট গুলো দেখে যেন মানুষ বিরক্ত বোধ না করে। ঘিঞ্জি কার্ড দেখে সবাই বিরক্ত হয়।

ফাইট স্পেস এর রং যে শুধু সাদা হবে এটা বাধ্যতামূলক নয় কার্ডের তথ্য দেয়ার আগে এবং পরে সঠিক জায়গায় থাকতে হবে যেন ডিজাইন নান্দনিক হয়।

৬।সৃজনশীলতা

সকল টিপস এর টেক্কা হচ্ছে শেষেরএই টিপস। এই টিপস গুলো হল প্রাকটিক্যাল ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যা ফলো করলে ভালো ফলাফলের আশা করা যায়। অনেক সময় লাইন তো লাইন টিপস রুলস ফলো করলেও ভালো কার্ড নাও হতে পারে, যদি না সেটার প্রেজেন্টেশন এবং বোরিং ভালো না হয়। যেমন আমরা এমন ডিজাইন আরো আগেও দেখেছি তাহলে এই কার্ডের জন্য আপনার সাথে সহজে যোগাযোগ করবে না। আপনি হাজার কার্ডের ডিজাইন করেন না কেন কাজ হবে না।

তাই উপস্থাপনায় আপনার সৃজনশীলতা কে কার্ডের ডিজাইন নিজেকে তুলে ধরতে হবে। আপনার কার্ডের ডিজাইন দেখে অনেকে আপনার সম্পর্কে আন্দাজ করতে পারবে আপনি কি করেন। আপনি কোন বিজনেস কার্ড দেখে তার থেকেও ধারণা নিতে পারেন।

আপনি যাদের ডিজাইন পছন্দ করেন তাদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদের মতামত আপনার কার্ড কিভাবে বানাবেন। আপনি যাই করবেন সেটি যাতে আপনার ব্যবসার জন্য বেস্ট হয়।

ভিজিটিং কার্ড সম্পর্কে সকল ধারণা নিয়ে নিজের জন্য কেমন ডিজাইন করতে চান? কার্ড দেখে আপনার খুব ভালো লেগেছে এমন কি কোন কার্ড আপনি পেয়েছেন? সেটার সম্পর্কে আপনি নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন!!

Leave a Reply

Shopping cart

0
image/svg+xml

No products in the cart.

Continue Shopping
x